লৈঙ্গিক সমতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লড়াইয়ের পরম্পরায় আয়ারল্যান্ডে রচিত হতে যাচ্ছে এক অনন্য ইতিহাস। বিশ্বের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ডবাসী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টির পথে এগিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম লিও ভরদকার। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে সে দেশের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি।
বর্তমানে লিও সামাজিক সুরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগেুলো জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে।

পেশায় ডাক্তার লিওর জন্ম মুম্বাইয়ে। লিওর বাবা অশোক ভরদকার ছিলেন মুম্বাইয়ের ডাক্তার। অভিবাসী হয়ে একসময় তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখানে আইরিশ নারী মিরিয়ামকে বিয়ে করেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই দম্পতি চলে যান আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে।
ইউরোপের অন্য বেশকিছু দেশের মতো দলের শীর্ষ ব্যক্তিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, এমন কোনও বিধান সে দেশে নেই। সেখানে নির্বাচিত দলীয় সংসদ সদস্যরা ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে বেছে নেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর পার্লামেন্টের দলীয় নেতৃত্বের লড়াইয়ে ৬০ শতাংশের সমর্থন নিয়ে তিনি বর্তমান আবাসনমন্ত্রী সাইমন কনভেনিকে হারান। ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টি হিসেবে জোট সরকার গঠন করে মধ্য-রক্ষণশীল ফাইন গেইল পার্টি। এর আগে ২০১১ সালেও এ পার্টির নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়েছিল। তখন থেকেই আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন ফাইন গেইল পার্টির পার্লামেন্ট নেতা এন্ডা কেন্নি। সম্প্রতি তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন নেত্বত্ব নির্বাচনে ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে সমকামিতাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেয় আয়ারল্যান্ড। ২০১৫ সালে গণভোটে জয়ী হওয়ার পর থেকে আয়ারল্যান্ডে সমকামী বিয়ে বৈধ। সে বছরই সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস হয়। আইরিশ ন্যাশনাল রেডিওতে এ নিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছেন লিও।
২২ বছর বয়সে লিও রাজনীতিতে আসেন। ২৭ বছর বয়সে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।নিজের সমকামী লিঙ্গ-পরিচয়কে আড়াল করেন না তিনি। বরং একে রাজনৈতিকতার মধ্যেই বিবেচনা করেন তিনি। দুবছর আগে লিও জনসমক্ষে নিজের এ লিঙ্গ পরিচয় তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে ৩৮ বছর বয়সী এই সমকামীর উঠে আসাটা একটা বড় ধরনের বিবর্তন। এই পবিবর্তন সামগ্রিক এক প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পটপরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
Comments
Post a Comment